‎এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুরঃ দেশের অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা যশোরের মণিরামপুর উপজেলা ব্যাপী ১৭টি ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের কাছে দিন গেলেই জনপ্রিয় ও আস্থা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে গ্রাম আদালতের বিচার ব্যবস্থা। ‘অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে,সঠিক বিচার পেতে চলো যায় গ্রাম আদালতে’ সাধারণ মানুষের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় এ স্লোগানের বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত গ্রাম আদালত কমিটি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্পৃক্ত সকলেই। প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের এ উপজেলাতে বিগত দিনের গ্রাম আদালত পরিচালনায় ও মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন সহ অন্যান্য ইউপির এজলাস কক্ষের সৌন্দর্য্য বর্ধনে ইতিমধ্যে গ্রাম আদালতে বিচারিক ব্যবস্থায় যশোরের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হিসাবে সম্মাননা স্বারক পেয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন। মাত্র ১০/২০ টাকা খরচে দ্রুত সময়ে স্থানীয় এ বিচারিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতো মণিরামপুরেও খুলছে মামলার জট,হচ্ছে দ্রুত নিষ্পত্তি! যার ফলে থানা ও আদালতের নথি জটিলতা কাটিয়ে ফিরতে দেখা গেছে স্বচ্ছতা,আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে এসেছে পরিছন্নতা।

‎তথ্য মোতাবেক, এ পর্যন্ত ১৭ টি ইউনিয়নে উপজেলায় মোট মামলা দায়ের হয়েছে ১৪৭১ টি৷ যার মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে উপজেলা ভিত্তিক নিস্পত্তির জন্য প্রেরন করেছে ৮৬ টি মামলা৷ অভিযোগ ও মামলা রেকর্ডে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদারকিতে এ পর্যন্ত সর্বমোট নিস্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ১৪৬১ টি বলে জানা গেছে। গত মাস অর্থাৎ আগষ্ট/২৬ শেষে অপেক্ষামান বা চলমান আছে বাকি ১০ টি মামলা,যা খুব দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে চলতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে গ্রাম আদালতের মণিরামপুর উপজেলা  কো-অর্ডিনেটর অনুপম কুমার ঘোষ। উপজেলা ব্যাপী গ্রাম আদালতের পরিসংখ্যান বলছে, নারী-পুরুষ উভয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের আইনি সেবায় সন্তোষজনক অবস্থান দেখা গেছে। তবে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে মুস্টিমেয় কিছু ব্যাক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সামনের দিনগুলোতে আরো পরিছন্ন বিচার দাবী করেন।

‎এ পর্যন্ত উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা দায়ের হয়েছে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ যার মামলা সংখ্যা ১২৭ টি এবং সব চেয়ে কম মামলা দায়ের হয়েছে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন যার মামলা সংখ্যা ৪২ টি। গত জুন মাসে গ্রাম আদালতের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও ইউএনডিপির যৌথ প্রতিনিধি দল পরিদর্শন পরবর্তী আলোচনা সভা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, উপজেলাতে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ও এজলাস কক্ষের কাঠামোগত ভাবে এগিয়ে আছে মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মোতাবেক ১৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের এজলাস কক্ষ সুসজ্জিত করা হয়েছে এবং শুনানীতে ব্যবহারের এজলাস ইতিমধ্যে নতুন ভাবে সংস্কার করা হয়েছে৷ তবে চলতি এ প্রতিবেদকের কাছে তথ্য আছে ১৭টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম কয়েকটি পরিষদ পিছিয়ে আছে। যার একমাত্র প্রতিবন্ধকতা লোকবল সংকট। যে সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে পিছিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবী উপজেলা ব্যাপী মাত্র ২জন কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ আছে,তারাই দেখাশোনা করেন। উল্লেখ্য,গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে অন্যান্য জেলা গুলোতে ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন(১) হিসাব সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ থাকলেও বৃহত্তর যশোরে উক্ত পদে এখনো পর্যন্ত নিয়োগ না দেওয়ায় অনেকটা মন্থর গতিতে এগোচ্ছে কার্যক্রম। মূলত, উল্লেখিত পদে একজন নিয়োগকৃত কর্মচারী তার নিজস্ব কাজ করতে পারলে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমেও অগ্রগতি আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের হ্যাট্রিক চেয়ারম্যান মোহ নিস্তার ফারুক জানান, গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আমার ইউনিয়ন পরিষদে অনেক আগে থেকেই হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান, আমি একজন চেয়ারম্যান হয়ে যেমন আমার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উদ্ভুদ্ধ করেছি,তেমনি প্রতিটি ইউনিয়নে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সকলে এগিয়ে আসলে স্বল্প খরচে ভোগান্তি হতে দ্রুত মানুষ মুক্তি পাবে।

‎গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিক এজলাসের খবর জানতে একান্ত স্বাক্ষাতকারে যশোরের শ্রেষ্ঠ গ্রাম আদালতের সম্মাননা স্বারক প্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন চলতি এ প্রতিবেদক’কে জানান “স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিস্পত্তির সহজ পথ ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত” সাধারণ মানুষের আইনি সেবার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনিরামপুর উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কার্যক্রম সক্রিয় এবং চলমান আছে৷ তিনি দাবী করেন, ইউনিয়ন ভিত্তিক সমস্যা সমাধানকল্পে নিয়মিত পরিচালিত গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা আছে সে গুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা নজর দিলে হয়তো দেশের আইনি সুবিধায় সাধারণ মানুষের কাছে গ্রাম আদালত একদিন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।